Thursday, August 27, 2020

আমরা যদি খাঁটি বাঙালি বা বাংলাদেশী হই, আমেরিকানদের খাঁটি আমেরিকান হ’তে অসুবিধে কোথায়?

 গতবার আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন এক প্রবাসী বাংলাদেশী আড্ডায় ছিলাম। প্রায় বিশ পঁচিশজন বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন সে আড্ডায়। আমরা দু’একজন বাদে প্রায় সবাই একবাক্যে বলেছিলেন, ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন বিরাট ব্যবধানে জিতে যাবেন। রিপাবলিক্যান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্র্যাম্পের না জেতার কারণগুলো জানতে চাইলে সব্বাই একবাক্যে যা বলেছিলেন, তার সারসংক্ষেপ এ রকম; ডোনাল্ড ট্র্যাম্প অভিবাসনের বিপক্ষে; [...]



বাংলাদেশে মুচি সম্প্রদায় একটি অবহেলিত দলিত শ্রেণী। এরা আমাদের খুবই পরিচিত কিন্ত এদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা খুবই সংকীর্ণ। এরা সমাজের এমনই একটি অস্পৃশ্য অংশ যে আমাদের শরীরে এদের স্পর্শ সয়না। এরা যে গ্লাসে পানি পান করে যে কাপে  চুমুক লাগায় যে প্লেটে  ভাত খায় সেসবে আমরা মুখ লাগাতে পারিনা আমাদের রুচিতে বাঁধে।এরা আমাদের পাশে থেকেও অনেক দূরলোকের বাসিন্দা। মুচিদের আবাসগুলিও নির্মিত হয় আমাদের আবাসের সাথে দূরত্ব রেখে। এদের সংখ্যা অতি নগন্য। মুচিদেরকে সংখ্যালঘু বললেও মনে হয় লঘুত্বকে হালকা করা হয়। আমরা তথাকথিত সভ্যজনরা বিপুল বিপুলভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ তাই দিনে দিনে আমরা সংখ্যায় আরও বেশি গরিষ্ঠ হই। আমাদের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী আবাসগুলি যখন এদের আবাসকে ছুঁয়ে ফেলে বা ছুঁয়ে ফেলার উপক্রম হয় তখন এদেরকে আরও দূরে সরে যেতে হয়। হুমকি দিয়ে গরিষ্ঠতার দাপট দেখিয়ে অর্থের প্রলোভন দিয়ে সরে যেতে বাধ্য করা হয়।সভ্য সমাজের মাঝখানে এই নোংরা মুচি সম্প্রদায় বসবাস করতে পারেনা। এ যেন চর্যা আমলের ডোম বা ডুম্বির মত। “নগর বাহিরিরে ডোম্বি তোহোরি কুড়িআ,ছোই ছোই জাহ সো বাম্মনাড়িয়া’ চর্যা কবির রচনায় তবু ডোম্বিকে নিয়ে মানবিক অনুভূতির দেখা মেলে কিন্তু আমাদের নাগরিক সাহিত্যে মুচি সম্প্রদায় আজও অপাংক্তেয়। মুচিকে নিয়ে উন্নত সাহিত্য রচিত হয়না। গল্প সিনেমার নায়ক সেতো কল্পনারও অতীত। তবে গ্রামবাংলায় মুখরোচক অনেক গল্পে অনেক সময় অনেক মুচির কথা উঠে আসে। আমার বর্তমান রচনার বিষয় তেমনি এক মুচির গল্প। ঘটনাটি হয়তো শত বছর আগের তবে চল্লিশ পঞ্চাশ বছর আগেও সেই গল্প প্রচুর শুনা যেত।ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির মুখে ভিন্ন ভিন্ন রঙ্গের আবেসে। ভাববেন না এটি কোনো বীর রসোপখ্যান। মুলত একজন মুচির কাপুরষতার গল্প এটি। গল্পের সেই মুচির নাম ছিল চিরায়তন,লোকমুখে তা হয় চিরাতন,চিরাতন মুচি। যেভাবে গল্পটি শুনেছি তাতে মনে হয় বৃটিশ আমলের শেষে বা পাকিস্তান আমলের গোড়ার দিকের ঘটনা এটি এবং অনুমিত হয় চিরায়তন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ সদরের আশপাশের কোনো গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। অবশ্য অন্য জায়গারও হতে পারে। এসব গল্প লোকমুখে প্রচারিত হতে হতে সর্বত্রই একটা স্থানীয় আবহ ধারণ করে। দেখি চোরে কী করে’ এমন একটি গল্প আবার সর্বত্র প্রচলিত আছে। সে যাই হোক আলোচ্য গল্পটি নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির নামে প্রচলিত এবং তার বিষয়বস্তুও স্বতন্ত্র। রাতের আঁধারে এক দুর্বৃত্ত চিরায়তনের ঘরে ঢুকে তার অনুঢ়া মেয়েকে ধর্ষণ করে।তার চোখের সামনেই ঘটে ঘটনাটি। একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় থানার দারোগার সামনে চিরায়তন যে জবানবন্দি দেন তাই এক সময় মুখ হতে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনাটি যেহেতু ধর্ষণের সুতরাং তাতে মানুষের আগ্রহ বেশি থাকবে তাই স্বাভাবিক। বহু মুখ থেকে শ্রুত এবং বহুরসে সিক্ত জবানবন্দির মার্জিত রূপটি এরকম:

Previous Post
First
Related Posts

0 comments: